আউটসোর্সিং নিয়ে কিছু কথা

আউটসোর্সিং। অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে এই শব্দটি ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ এটি। দেশে থেকেই তথ্য-প্রযুক্তির সাহায্যে বৈশ্বিক কাজের বাজার ঘুরে বেড়ানোর ক্ষেত্রে পরিচিত একটি নাম বর্তমানে অনলাইন আউটসোর্সিং। তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে কাজের পরিধি এখন নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত। উন্নত বিশ্বের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো যখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তির মাধ্যমে করানো হয়ে থাকে, তাকেই মূলত আউটসোর্সিং হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। আউটসোর্সিং কাজ পাওয়ার জন্য রয়েছে ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো পেশাজীবী এবং কাজদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়। অনেক কাজ আছে যেগুলো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে করা যায় না। যদিও করানো যায় তবে তার খরচ অনেক বেশি পড়ে এবং কখনও কখনও সময়ও বেশি লাগে। সেই প্রতিষ্ঠানগুলো তখন ওই কাজগুলো বাইরে থেকে করিয়ে নেয়। আর এটাকেই বলে আউটসোর্সিং। যেসব দেশে শ্রম অপেক্ষাকৃত কম, সেসব দেশের পেশাজীবীরা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজগুলো করে দেন। অর্থাত্ আউটসোর্সিং হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ নিজেরা না করে তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে করিয়ে নেয়া। আউটসোর্সিংয়ের সিদ্ধান্ত সাধারণত নেয়া হয় খরচ কমানোর জন্য। অনেক সময় পর্যাপ্ত সময়, শ্রম অথবা প্রযুক্তির অভাবেও আউটসোর্সিং করা হয়। আমেরিকা-ইউরোপের যেসব কোম্পানি তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজ করে, তারা তাদের কাজের বড় একটা অংশ অন্য দেশের কর্মীদের দিয়ে করিয়ে থাকে। কারণ অন্য দেশের কর্মীদের কম অর্থ দিয়েই কাজ করানো যায়। তুলনামূলকভাবে পারিশ্রমিকের মূল্য কম থাকার কারণে উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশ এক্ষেত্রে আউটসোর্সিং শিল্পে দ্রুত উন্নতি করে চলেছে।

অনলাইন আউটসোর্সিং ও ফ্রিলান্সিং

অনলাইন আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকা আরেকটি শব্দ হলো ফ্রিলান্সিং (Freelancing)। ফ্রিল্যান্সিং বলতে ‘মুক্ত পেশা’ বোঝানো হয়। এখান থেকেই ফ্রিলেন্সার বা মুক্ত পেশাজীবী কথাটা এসেছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে না করে ব্যক্তিগতভাবে যখন কেউ আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেন তখন তাদের ফ্রিল্যান্সার বলা হয়। তবে এটা যে কোনো পেশার ক্ষেত্রে হতে পারে। সাধারণত যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করে তাদের ফ্রিল্যান্সার বলে। আসলে মুক্ত বা স্বাধীনভাবে কাজ করার মাধ্যমই হলো ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিলান্সাররা দেশ-বিদেশের সবার সঙ্গে কাজ করে সম্পূর্ণ নিজের স্বাধীনতায়। কেউ তাকে বাধা বা কাজ বিঘ্নিত করতে পারে না। গতানুগতিক চাকরির বাইরে নিজের ইচ্ছামত কাজ করার স্বাধীনতা থাকে ফ্রিল্যান্সিংয়ে। ফ্রিল্যান্সার হচ্ছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি ছাড়া কাজ করেন। এখানে একদিকে যেমন রয়েছে যখন ইচ্ছা তখন কাজ করার স্বাধীনতা, তেমনি রয়েছে কাজের ধরন বাছাই করার স্বাধীনতা। হতে পারে তা ওয়েবসাইট তৈরি, থ্রিডি এনিমেশন, ছবি সম্পাদনা, ডাটা এন্ট্রি বা শুধু লেখালেখি করা। অর্থাত্ গতানুগতিক ৯টা-৫টা অফিস সময়ের মধ্যে ফ্রিল্যান্সারদের স্বীমাবদ্ধ থাকতে হয় না। ইন্টারনেটের কল্যাণে ফ্রিল্যান্সিং নির্দিষ্ট স্থানের সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত নয়। আপনার সঙ্গে যদি থাকে একটি কম্পিউটার আর একটি ইন্টারনেট সংযোগ তাহলে যে কোনো জায়গাতে বসেই আপনি ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের কাজগুলো করতে পারেন। এরই মধ্যে এ ধরনের একটা জনশক্তি দাঁড়িয়ে গেছে বাংলাদেশে। বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি। এদের অর্ধেকই নিয়মিত আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে থাকে। এদের মধ্যে অনেকে রয়েছে যারা পড়ালেখা শেষ করে কোনো চাকরিতে যোগ না দিয়ে সরাসরি অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করছেন। অনেকে আবার অন্যদের জন্য কর্মক্ষেত্র সুষ্টি করছেন।
তবে এখনও বিষয়টা বেশিরভাগের কাছে পরিষ্কার না হওয়ায় আউটসোর্সিংয়ের বিশাল বাজারে ভারত বা ফিলিপাইনের মতো আমরা সেভাবে প্রবেশ করতে পারিনি। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ডাটা এন্ট্রির কাজ করে প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার ডলারের মতো আয় করে থাকেন।

আউটসোর্সিংয়ে সম্ভাবনা

বিশ্বব্যাপী আউটসোর্সিংয়ের বিশাল বাজারের শীর্ষ ভাগ আমাদের পাশের দেশ ভারতের হাতে। আউটসোর্সিং সার্ভিসে ভারতের পাশাপাশি ফিলিপিনস, পাকিস্তান, নেপাল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইউক্রেন, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, চীন, রাশিয়া, পানামা, মিসর এবং আরও অনেক দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আউটসোর্সিংয়ের জগতে বাংলাদেশ অনেক দেরিতে প্রবেশ করলেও স্বপ্ন দেখার মতো বিষয় হচ্ছে, আউটসোর্সিংয়ে আমরা ধীরে ধীরে হলেও এগিয়ে যাচ্ছি। সম্ভাবনাময় দেশের কাতারে চলে এসেছে বাংলাদেশ। তাই আউটসোর্সিংয়ের মতো শিল্প হয়ে উঠছে বেকার সমস্যা সমাধান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উপায়।
ইন্টারনেটে আউটসোর্সিং কাজ পাওয়ার একটা বড় জায়গা হলো ওডেস্ক। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম যারা ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের কাছে ওডেস্ক খুব পরিচিত একটি নাম। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মুক্ত পেশাজীবী বা ফ্রিল্যান্সার ওডেস্কে কাজ করে থাকেন। কিছুদিন আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন ওডেস্কের সহ-সভাপতি ম্যাট কুপার। আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওডেস্ক সাইটে আউটসোর্সিংয়ের কাজে শীর্ষস্থানে এখন আছে ফিলিপাইন। এরপর আছে ভারত। তৃতীয় স্থানেই আছে বাংলাদেশ। অর্থাত্ ওডেস্কে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভালো। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা খুব ভালো কাজ করছেন, দ্রুত তাদের উন্নতি হচ্ছে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে কাজ পাওয়ার হার উল্লেখ করার মতো কিছু ছিল না। মাত্র তিন বছরে ওডেস্কে বাংলাদেশ শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে গেছে। এছাড়া ওডেস্কে মোট কাজের ১২ শতাংশ বাংলাদেশীরাই সম্পন্ন করছে। এটা খুব বড় ধরনের উন্নতি। ওডেস্কের তথ্য মতে, বাংলাদেশের বিশেষ করে ঢাকার ফ্রিল্যান্সারদের এই সফলতার পেছনে রয়েছে সস্তা শ্রম এবং ইংরেজিতে দক্ষতার বিষয়টি। এছাড়াও গত বছর সারা বিশ্বের তথ্য-প্রযুক্তি আউটসোর্সিং কাজ করা দেশগুলোর শীর্ষ ৩০-এর তালিকায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত হয়। বিশ্বখ্যাত তথ্য-প্রযুক্তি গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গার্টনারের এক সমীক্ষায় এ তথ্য জানানো হয়। যেসব কোম্পানি আউটসোর্সিংয়ের জন্য লোক খুঁজে, তারা বাংলাদেশকেও তাদের অন্যতম পছন্দের তালিকায় রাখছে এখন। গার্টনারের মতে, সস্তা শ্রম আর পর্যাপ্ত জনশক্তি—এই দুটি কারণে বাংলাদেশ আউটসোর্সিংয়ের জন্য সম্ভাবনাময় একটি দেশ। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত যেসব কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে আউটসোর্সিং করিয়ে নিয়েছে তারা বাংলাদেশী তরুণদের কাজে সন্তুষ্ট। সুতরাং এই তরুণদের যদি ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া যায় তাহলে আউটসোর্সিং থেকে বাংলাদেশ অনেক অর্থ আয় করতে পারবে। তাই আউটসোর্সিং কাজের এত সম্ভাবনার কথা আমাদের সরকারের সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করা উচিত। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ নিবন্ধিত আউটসোর্সিং কোম্পানি রয়েছে। যেখানে কাজ করছেন প্রায় বিশ হাজার দক্ষ লোক।

এ খাতের সমস্যাগুলো

আউটসোর্সিংয়ে আমাদের পিছিয়ে পড়ার কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য এই সেক্টরের উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন যাবত দাবি তুললেও কোনো সমাধান হয়নি। রয়েছে সঠিক দিকনির্দেশনারও অভাব। তাই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা দরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা সরকারকে। দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের একটা বড় সমস্যা ধীরগতির ইন্টারনেট। ভালো মানের ইন্টারনেট ঢাকাকেন্দ্রিক। ঢাকার বাইরে ইন্টারনেটের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোবাইলের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। সুলভ মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব হলে দ্রুত সমৃদ্ধ হবে আমাদের আউটসোর্সিং সংস্কৃতি। আরও একটা বড় সমস্যা হলো, আউটসোর্সিংয়ে কাজ করে পাওয়া টাকা দেশে নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসা। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষ কোনো ব্যাংকিং ব্যবস্থা নেই। উপার্জিত অর্থ ফ্রিল্যান্সারদের বাংলাদেশে আনতে হয় বিভিন্ন অনুমোদনহীন মাধ্যমে। বাংলাদেশের সরকারের এ ব্যাপারে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বিদেশ থেকে অনলাইন পেমেন্ট সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের সেবা চালু আছে। এর মধ্যে পেপ্যাল, পেপেইড ইত্যাদি সেবা আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশে পেপ্যাল সেবা এখনও চালু হয়নি। এই সেবা থাকলে অর্থ দ্রুত এবং সহজে পাওয়া যায়। আউটসোর্সিংয়ে আরেকটি বড় বাধা হচ্ছে বিদ্যুত্ সমস্যা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সঙ্কটের কারণে সময়মত কাজ ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হয় না অনেক সময়। এছাড়াও ছোট ছোট কোম্পানিগুলোর বিকাশের জন্য সরকারের উপরোক্ত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। বিশেষভাবে প্রয়োজন নতুন নতুন টেকনোলোজির ওপর প্রফেশনাল ট্রেনিং। তাছাড়া বাংলাদেশে এখনও আউটসোর্সিংকে পেশা হিসেবে নিতে সবাইকে দশবার ভাবতে হয়। কারণ পেশা হিসেবে বাংলাদেশে এখনও তেমন সম্মান দেয়া হয় না ফ্রিল্যান্সারদের। একজন ফ্রিল্যান্সার অনেক সময় নিজেকে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বলতেও ইতস্তত বোধ করেন। এর আসল কারণ হলো, তার কাজ বা কাজের প্রক্রিয়া অধিকাংশ সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেন না।

আউটসোর্সিংয়ে কাজের পরিধি

আউটসোর্সিং বর্তমান সময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে অর্থনৈতিক চালিকা শক্তির অন্যতম ভিত্তি, বিশেষ করে তরুণদের কাছে যারা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের পকেট খরচ চালানোর পথ হিসেবে আউটসোর্সিং গ্রহণ করলেও পরে অনেকেই ভবিষ্যতের আয়-উন্নতির স্থায়ী পথ হিসেবে এটিকে গ্রহণ করছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন আইটি ফার্ম এবং ফ্রিল্যান্সারদের পরিশ্রমের ফসল হচ্ছে আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশের আজকের সম্মানজনক অবস্থান। কয়েক বছর আগেও আউটসোর্সিংয়ের বৈশ্বিক মানচিত্রে বাংলাদেশের নাম ছিল না। সেখানে এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। ছাত্ররাও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে পড়ালেখার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের একটা ব্যবস্থা করতে পারেন। আউটসোর্সিংয়ে কাজের শেষ নেই। দিন যত যাচ্ছে নতুন নতুন কাজ তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তির বদৌলতে কাজেরও ভিন্নতা আসছে। ডাটা এন্ট্রি, মেডিকেল ট্রান্সক্রিপশনের পর এখন সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব আইপি অ্যাপ্লিকেশন, মোবাইল কনটেম্লট, প্রিন্টিং ওয়াক, ব্রুশিয়ার ডিজাইন, প্রোগ্রামিং, ডাটাবেজ, গ্রাফিক্স ডিজাইন, এনিমেশন, গেমস তৈরি, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, সফ্টওয়ার টেস্টিং, আর্কিটেকচারাল ওয়ার্ক, সফটওয়্যার পরীক্ষা, নিবন্ধ লিখন, অনুবাদ, গেম ডেভেলপ করা, সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ পরামর্শ প্রদান, ইন্টারনেট মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, হিসাবরক্ষণ, পরিসংখ্যান, গবেষণাসহ নানা ধরনের কাজ আসছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিংয়ে সবচেয়ে বেশি যে কাজটি হয় সেটি হলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)। এর পরই আছে ডাটা এন্ট্রি, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি।

আউটসোর্সিংয়ের রকমফের

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধরনের আউটসোর্সিং রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), কো-সোর্সিং, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রসেস আউটসোর্সিং (ইপিও), ফার্মশোরিং, হোমশোরিং, ইনসোর্সিং, নলেজ প্রসেস আউটসোর্সিং (কেপিও), লিগ্যাল প্রসেস আউটসোর্সিং (এলজিও), নিয়ারশেরিং, ইনফরমেশন টেকনোলজি আউটসোর্সিং, অফশোর আউটসোর্সিং, অফশোর সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, অফশোরিং আইটি সার্ভিসেস, প্রিন্ট অ্যান্ড মেইল আউটসোর্সিং, রিক্রুট প্রসেস আউটসোর্সিং, সোশ্যিয়ালি রেসপন্সিবল আউটসোর্সিং।

আউটসোর্সিংয়ে ক্যারিয়ার

অনেকেই আউটসোর্সিংকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে স্মার্ট জব বলে থাকেন। আউটসোর্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে হলে অবশ্যই তাকে তথ্য-প্রযুক্তি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট হতে হবে। নিজের মধ্যে ক্রিয়েটিভির গুণ থাকা দরকার। কম্পিউটারের পাশাপাশি ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে। যোগাযোগের জন্য ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। এ সেক্টরে অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে, তাই যে যে শাখায় এক্সপার্ট তাকে সে শাখায় কাজ করা উচিত। ভালো কাজ করার সদিচ্ছা থাকলে এবং কমিউনিকেশন যোগ্যতা থাকলে এ সেক্টরে নিজে নিজেই অনেক অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

আউটসোর্সিংয়ে কাজের ক্ষেত্র

ইন্টারনেটে অনেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে যারা আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। এসব সাইটকে বলা হয় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। ফ্রিল্যান্সার ডটকম, ওডেস্কসহ যে কোনো আউটসোর্সিং বিষয়ক ওয়েব সাইটে ঢুকলে দেখা যায় বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক কাজের ছড়াছড়ি। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এত বেশি কাজের অফার রয়েছে যে আপনি কোনটা ছেড়ে কোনটা করবেন। তবে সংশ্লিষ্ট কাজের দক্ষতা থাকা চাই। যেমন বাংলাদেশী মুক্ত পেশাজীবীদের কাছে ওডেস্ক সাইটটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এর ঠিকানা www.odesk.com। এমনি আরও কিছু আউটসোর্সিংয়ের ওয়েব সাইট এখানে উল্লেখ করা হলো।
www.freelancer.com
www.freelanceroutsource.com
www.vworker.com
www.outsourcexp.com
www.mochimedia.com
www.elance.com
www.ifreelance.com
www.rentAcoder.com
www.scriptlance .com
www.joomlancers .com
এছাড়াও বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং লিখে সার্চ দিলেও অনেক ওয়েবসাইটের খোঁজ মিলবে।

পরিশেষে

ধীরগতির ইন্টারনেট কানেকশন আর লোডশেডিংয়ের মতো বড় বাধার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশ আজ যে অবস্থানে এসেছে তা নিয়ে ভবিষ্যতের অনেক স্বপ্ন দেখতেই পারি। তবে এই স্বপ্নকে ব্যবহার করে এএমএলের নামে প্রতারণা করেছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। কিছু নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান আউটসোর্সিংয়ের ট্রেনিং ও কর্মশালার নামে আগ্রহীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। ‘ঘরে বসেই বিনা পরিশ্রমে আয় করুন লাখ লাখ টাকা’—এ ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন এখন সচরাচর দেখা যায়। এই বিজ্ঞাপনগুলোর কারণে আউটসোর্সিং সম্পর্কে ধারণা নেই এরকম অনেকের মনে বিরূপ ধারণার জন্ম নিচ্ছে যা ক্ষতি করছে সম্ভাবনাময় এই খাতকে। মনে রাখবেন, যে পেশাই হোক না কেন, পরিশ্রম ছাড়া কোনো কিছুতেই সফলতা আসে না। পরিশ্রমই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। যে কোনো কাজে লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই। আর বিনা পরিশ্রমে ঘরে বসে কথাটি যারা বলছে, তাদের উদ্দেশ্য যে প্রতারণা এটা সবাইকে বুঝতে হবে।


 স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থাকতে পারে—আয়ের বিভিন্ন পথের মধ্যে কোনটি বেশি গ্রহণযোগ্য, কিংবা লাভজনক?
এককথায় এর উত্তর দেয়া কঠিন। ওয়েব ডিজাইন করলে বহু টাকা আয় করা যায়, কিন্তু সেটা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। ডাটা এন্ট্রি বা টাইপিং সে তুলনায় সহজ কাজ। আবার কারও কারও পক্ষে সেটাও সম্ভব হয় না বিভিন্ন কারণে। কারও কাছে নিজস্ব ব্লগ তৈরি করা লাভজনক। ব্লগ জনপ্রিয় হলে সেখানে বিজ্ঞাপন রেখে যথেষ্ট পরিমাণ আয় করা যায়। তবে ইন্টারনেটে আয়ের বিভিন্ন পথগুলোর মধ্যে কিছু হলো—

ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন কাজ

যদি বিশেষ কাজে দক্ষতা অর্জন করে সেই কাজ নিয়ে থাকতে চান তাহলে আয়ের সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কাজ করা। ডাটা এন্ট্রি, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, প্রোগ্রামিং—সব ধরনের প্রচুর কাজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে ইন্টারনেটে। কাজের মজুরি ডলারে, কাজেই স্থানীয় কাজ থেকে তুলনামূলক বেশি। উদাহরণ হিসেবে একটি লোগো ডিজাইন করে পেতে পারেন ১০ থেকে ১০০ ডলার কিংবা আরও বেশি। এক পৃষ্ঠা টাইপ করে পেতে পারেন ২ থেকে ৫ ডলার। বিভিন্ন ওয়েবসাইট এ রকম কাজ পেতে সহায়তা দেয়। ফ্রিল্যান্সার, স্ক্রিপ্টল্যান্স, গুরু, ওডেস্ক এ ধরনের সাইট। তাদের সদস্য হওয়া যায় বিনামূল্যে। তবে কাজ করলে অর্থ প্রদানের সময় তারা সামান্য ফি কেটে নেয়।

মাইক্রো-জব

মাইক্রো-জবকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। পার্থক্য হচ্ছে, এই কাজগুলো খুব সহজ। সহজ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া। কোনো লিস্টে কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট বিষয় সিলেক্ট করা, ছবির সঙ্গে মানানসই নাম দেয়া, কিছু ডাউনলোড করা ইত্যাদি উদাহরণ হিসেবে দেখতে পারেন।

ব্লগিং

গুগলের বিনামূল্যের ব্লগিং ব্যবস্থা ব্লগার ব্যবহার করে যে কোনো বিষয়ে একটি ব্লগ তৈরি করে যথেষ্ট পরিমাণ আয় করা যেতে পারে। ব্লগে ভিজিটর যত বেশি আয়ের সম্ভাবনা তত বেশি। এজন্য শুরুতে একটি বিষয় বেছে নেয়া প্রয়োজন। ইন্টারনেটে খোঁজ করে ব্লগের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। বস্তুত বিষয়ের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। যার যে বিষয়ে আগ্রহ তিনি সেই বিষয়ে ব্লগ তৈরি করতে পারেন। এমনকি ছবি ওঠানোর শখ থাকলে ওঠানো ছবিগুলো রেখেই ব্লগ তৈরি করা যায়। ব্লগ তৈরির পর গুগলের এডসেন্সসহ অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের সদস্য হয়ে ব্লগে বিজ্ঞাপন যোগ করা হয়। বিভিন্ন কোম্পানির অ্যাফিলিয়েশন নিয়ে তাদের লিংক রাখতে হয়। ভিজিটর যখন সেই বিজ্ঞাপন বা লিংকে ক্লিক করবেন তখন ব্লগার টাকা পান। শুধু ক্লিক করার জন্য টাকা, কিছু কিনলে কমিশন, সদস্য হলে কমিশন ইত্যাদি নানাভাবে আয় আসতে থাকে। ব্লগারের মূল কাজ বেশি ভিজিটর আনার ব্যবস্থা করা।

লেখালেখি করে আয়

ইন্টারনেটে ব্লগ বা ওয়েবসাইট রয়েছে বহু কোটি। তাদের প্রত্যেকের পক্ষে সবকিছু নিজেদের পক্ষে লেখা সম্ভব হয় না। সব সময়ই তারা টাকা দিয়ে লেখা সংগ্রহ করেন। কিছু প্রতিষ্ঠিত সাইট রয়েছে, যারা বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ লেখার সুযোগ করে দেয় এবং রিভিউপ্রতি ২০ থেকে ৪০ ডলার দেয়। কখনও কখনও সেই লেখা থেকে যা আয় হয়, তার ৪০ থেকে ৫০ ভাগ লেখককে দেয়া হয়। এ ধরনের কাজ পাওয়া তুলনামুলক সহজ। প্রায় সব ওয়েববসাইট যেহেতু ইংরেজিতে সেহেতু লিখে আয় করার জন্য ইংরেজিতে দক্ষতা প্রয়োজন হয়। এটাই মূল যোগ্যতা। এরপর যে বিষয়ে লিখতে হবে, সে বিষয়ে তারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন অথবা ইন্টারনেট থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা যায়।

টেমপ্লেট ডিজাইন

টেমপ্লেট ডিজাইন হলো কোনো ওয়েবসাইট তৈরির প্রাথমিক ধাপ। ধরুন, আপনি ভ্রমণসংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইট করতে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ছবি ও তথ্য ওয়েবপেজের কোন জায়গায় কতটুকু যাবে, তার একটি প্রাথমিক ডিজাইন এই টেমপ্লেট। তাই আয়ের একটি ভালো পথ হলো টেমপ্লেট ডিজাইন তৈরি। বিভিন্ন টেমপ্লেটের নমুনা দেখতে ভিজিট করুন :
www.freewebsite templates.com, www.joomladesigns.co.uk.

সার্ভে করে আয়

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কারণে জনমত জরিপ করে। বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যাণে এ কাজ অনেক সহজ। ফলে যে কেউ ইচ্ছা করলেই এতে অংশ নিয়ে টাকা আয় করতে পারেন। কাজটি তুলনামূলক সহজ। তারা নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন দিয়ে দেন, সেগুলোর ভিত্তিতে উত্তর সংগ্রহ করতে হয়।
সমস্যা হচ্ছে, সব দেশে সমানভাবে এই কাজ পাওয়া যায় না। অনেকে নির্দিষ্ট করে বলে দিতে পারেন ইউরোপ-আমেরিকার কথা, কিংবা বিপরীতভাবে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয় এমন কথা।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজিং

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজিং বা এসইও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্চ রেজাল্টে কোনো ওয়েবসাইটের অগ্রাধিকার ঠিক করা সম্ভব। যেমন—কোনো কোম্পানির শিক্ষাবিষয়ক একটি সাইট আছে। তারা চাচ্ছে, গুগল সার্চের ফলাফলে তাদের সাইটটি শুরুর দিকে থাকুক। এক্ষেত্রে এসইও জানা থাকলে তা করা সম্ভব। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন : en.wikipedia.org/wiki/search-engine-optimization

গ্রাফিক ডিজাইন

যদি গ্রাফিক ডিজাইন জেনে থাকেন তবে এ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনের বিভিন্ন সাইট থেকে কাজ বাগিয়ে নিতে পারেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোগো, প্যাড, বিজনেস কার্ড, লেটার হেড করতে গ্রাফিক ডিজাইনে জ্ঞান প্রয়োজন। গ্রাফিক ডিজাইনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানতে দেখতে পারেন :
www.graphicdesign.aboutcom, www.graphic-design.com, www.graphiccompetitions.com

অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার

বর্তমান প্রজন্মের কাছে অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট জনপ্রিয় হচ্ছে। ধরি আপনি একটি সাইট করলেন যেখানে ইংরেজি থেকে বাংলা এবং বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা যায়। আপনি যদি সাইটটি আপলোড করেন তাহলে অনেকেই এটি ব্যবহার করবে। আপনি ইচ্ছে করলে এর সঙ্গে গুগল অ্যাডসেন্সের মতো বিজ্ঞাপনি সেবাগুলো যোগ করতে পারেন। বেশি ভিজিট বা বেশি ক্লিক মানেই পকেটে অর্থ। ভালো গেমস অ্যাপ্লিকেশন করতে পারলেই ফেসবুক সেটি কিনে নেবে। ফেসবুকে অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করতে ভিজিট করুন www.developers.
facebook.com

নতুন কিছু

ফ্ল্যাশ তৈরি, প্রোডাক্ট রিভিউ, ব্লগ তৈরি, প্রজেক্ট টেস্টার অর্থ উপার্জনের আরও কয়েকটি পথ। তবে টেকনিক্যাল জ্ঞান না থাকলে নেটে প্রচুর টিউটোরিয়াল রয়েছে যেখানে বেশ কিছু কাজের গোছানো বর্ণনা রয়েছে। এখান থেকে আপনি কাজগুলো শিখে নিতে পারেন।
আপনি যদি নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারেন তাহলে আপনি সহজেই বিপুল পরিমাণে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স করায়।

সহজে আয় কতটা সহজ?

সহজে আয় বলতে মূলত ক্লিক করে আয় বুঝায়। পিটিসি বা পেইড টু ক্লিক হচ্ছে এক ধরনের বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক। সেখানে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। আপনি যেহেতু সেই বিজ্ঞাপন দেখবেন, সেহেতু টাকা পাবেন। প্রতি বিজ্ঞাপনের জন্য ১ বা ২ সেন্ট থেকে শুরু করে .১ সেন্ট পর্যন্ত। তবে অর্থের পরিমাণ একেবারেই কম।
অনেক পিটিসি সাইট ক্লিক করে আয়ের সঙ্গে নানা ধরনের পদ্ধতিতে আয়ের সুযোগ দেয়। যেমন ইমেইল সদস্য হলে আপনার কাছে ইমেইল আসবে, সেগুলো পড়বেন বলে আপনি অর্থ পাবেন (এগুলোও বিজ্ঞাপন)। অন্যদের সদস্য করলে তারা যে আয় করবেন তার অংশ পাওয়া যায়।
এ ধরনের আয় সম্পর্কে কিছুটা সাবধান থাকা ভালো। এভাবে আয়ের পরিমাণ অত্যন্ত কম। কাজ সহজ বলে অনেক কোম্পানি বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে কাজ করায় (যেমন প্রতি ক্লিকে ১ ডলার বা ১০ ডলার), বাস্তবে কোনো বিজ্ঞাপনদাতা এত টাকার বিজ্ঞাপন দেন না। ফল হিসেবে আপনার নামে টাকা জমা হওয়ার পর যখন টাকা চাইবেন তখন সেই কোম্পানি আর যোগাযোগ করবে না।
আরেকটি সমস্যা হচ্ছে, অনেক কোম্পানি সদস্য হওয়ার জন্য টাকা দিতে বলে। এভাবে বহুজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। বাংলাদেশেও ডোল্যান্সারসহ সম্প্রতি এ রকম কয়েকটি কোম্পানি কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। কোনো পিটিসি সাইটের সদস্য হওয়ার আগে তাদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া ভালো। এই প্রধান পথগুলোর বাইরে ইন্টারনেট থেকে আয়ের আরও অসংখ্য পথ রয়েছে। নিয়মিত কিছুদিন ইন্টারনেটে সার্চ করে তাদের বর্ণনা পড়ে নিজের পছন্দের পদ্ধতি খুঁজে নিতে পারেন।

2 comments:

  1. আপনার সুন্দর পোস্টের জন্য ধন্যবাদ.

    Here I mention one new social website which is offer global share for daily one time login.
    This is like a facebook.
    You earn daily one share=$30 to $ 40 only one time login.
    And more earn you invite your more friends
    Singup below link and start earn share from today.
    Now 19 days balance

    https://www.globallshare.com/en/2886963.html

    After login go to GAS-WORLD and click active, your earn 1 share($30 to $40)
    check your share click in Web office

    ReplyDelete
  2. Thanks for your nice post...........

    Earn daily $5 to $ 10

    Warning:-Minimum investment required 6$ + fees
    Instant Payment 100% Guaranteed
    [Please do not join if you're not going to spend $ 6 and are not continue work]
    Signup with this below links
    1. http://www.ptcircle.com/?ref=mcd100

    2 http://www.btccircle.com/?ref=rctg12

    ReplyDelete